রাতকাহন

অঞ্জন চক্রবর্তীর ছবি

মধ্যযামে রাজপথ তামাদি হয়ে যায়। শব্দের তীক্ষ্ণতা বাড়ে, বাসস্টান্ডে কুয়াশার সর পড়ে। রাত্রি গভীর হলে বাতাসে ভেসে আসে পড়া মুখস্ত করার একঘেয়ে আওয়াজ। কলকাতার মরা বন্দরে একটি শিপইয়ার্ড আছে। সেইখানে, কোথায় কী হয়, কেউ জানে না, শুধু ওভারকোট পরিহিত দীপকের…

আরো পড়ুনরাতকাহন

উজ্জল রোদ

অঞ্জন চক্রবর্তীর ছবি

সুন্দর রোদের জন্যে কখনও কখনও গভীর রাতেও মানুষেরা প্রার্থনা করে। মানুষের প্রার্থনা মানুষের নিঃশ্বাসেই গাঢ় হয়, ঘন হয় বাড়ে কেবলই নিঃশ্বাস- নিঃশ্বাসের মতই সুক্ষ্ম দেহে গভীর রাতে মানুষের মাঝেই নেমে আসে সুন্দর রোদ। আকাঙ্খিত’শরীরে ওই রোদ কেবলই উজ্জল থেকে উজ্জলতর…

আরো পড়ুনউজ্জল রোদ

মা

শ্রীহরি দত্তের ছবি

মা তুমি শুকিয়ে এইটুকুনি হয়ে গেছ তোমার হাতে গড়া এই মহেঞ্জোদরো উঠোনের পাশে এই আমগাছ, মহানিম তুমিই তো শেষ ছায়া ও আশ্রয় মাটির উনুনশিল্প, কাঁথাকানি, দেওয়ালচিত্র সবেতেই তুমি, ঘরময় স্নেহচিহ্ন অথচ মৃত্যুর ইশারায় তোমার ভারতবর্ষ আজ শূন্য হয়ে আছে গরম…

আরো পড়ুনমা

বিরোধীকে বলতে দাও

জিনিয়া চন্দ্রের ছবি - বিরোধীকে বলতে দাও

বিরোধীকে শূন্য করলে? শোন কথা শূন্য শয়তানের সংখ্যা,এই সত্য নিত্য বলে যিনি মানতেন তিনি কিন্তু পিথাগোরাস। কেন জানো? বিরোধীরা শূন্যযোগে বিরোধীই থাকে চিরকাল। শূন্যবিয়োগেও দেখ তাই। বিরোধীর গুণ যদি শূন্য মনে কর সব সম্ভাবনা তবে শূন্য হয়ে যায়। শূন্যভাগ বিরোধিতা…

আরো পড়ুনবিরোধীকে বলতে দাও

পরিযায়ী

চিত্রদীপ দাশের ছবি

টিপ টিপ বৃষ্টিতে মুজনাইয়ের জলে তরঙ্গ উঠছে। উত্তরের আকাশে মেঘ থাকলেও নীল পাহাড়টা উঁকি দিচ্ছে মাঝেমাঝে। বাচ্চু পুরোহিতের সঙ্গে গলা মেলায় তুসু গোত্রে অসমতপিতা সুরেশ শর্মা বাসুরূপত ত্রিপ্যতামিদম তিলোদকম গঙ্গা জলম ভা তসমই স্বধা নমঃ, তসমই স্বধা নমঃ, তসমই স্বধা…

আরো পড়ুনপরিযায়ী

আরশি নগর

চিত্রদীপ দাশের ছবি

বুকের বাঁ ধারে তোর্সা ভাসিয়ে বাঁধ বরাবর সোজা হেঁটে গেলে ডান ধার ঘেঁষে লেখার পাতায় ইট আধলার রাজবাড়ি ইতিহাস— ফাটল বেয়ে বনস্পতির ছায়া ভরা দরবারে ভাদর শেষের খেলা ইঁদুরের ছুট , বাদুরের ওড়াউড়ি গবাক্ষ ছুঁয়ে খিলানের লুকোচুরি তফাৎ যাও— শীর্ণ…

আরো পড়ুনআরশি নগর

কবিতা সিরিজ

জিনিয়া চন্দ্রের ছবি - কবিতা সিরিজ

১ যতটুকু দেখ ততটুকুই ভালো আছি বাদবাকি সবকিছু আগোছালো, সন্তর্পণে লুকিয়েছি । ২ আঁচলে গিঁঠ দিলে নাকি জিনিস খুঁজে পায় । সম্পর্কে গিঁঠ দিলে মন খুঁজে পাবো তো ? ৩ ঘর । কোনটাকে বলা হয় ? ইঁটপাথরের চারটে দেওয়াল ,…

আরো পড়ুনকবিতা সিরিজ

জয়শীলা গুহ বাগচীর দুটি কবিতা

শ্রেয়ান দাস এর ছবি

শ্বাস সম্পর্কের ভেতর পশ্চিম এলে একটি ঘোড়া এসে দাঁড়ায় মুখ নিচু করে থাকে নি:শ্বাসে ঢেউয়ের গর্জন ক্রমশ বড় হয়ে যায় পৃথিবী ফুলে ওঠে সম্পর্ক দূরের তারা হয়ে ঝিলমিল করে পশ্চিম এলেও কোথাও সূর্য ওঠে পুবে আহা রঙ আহা মিশুকে আলো…

আরো পড়ুনজয়শীলা গুহ বাগচীর দুটি কবিতা

দেবাশিস সাহার দুটি কবিতা

শুক্তি ভট্টাচার্যের ছবি

অপেক্ষা রঙের গাছবাড়ি পাখিদের সীমান্ত নেই দেশ নেই শীতকাল ডাক দিলেই চলে যায় অন্য দেশে প্রেমের খোঁজে পথ চিনে ফিরে আসে ফের গাছবাড়িতে অপেক্ষার কাছে পাখিদের দ্বেষ নেই হিংসা নেই খুন নেই খুনসুটি নিয়ে করে ঘর সংসার। ছবি: শুক্তি ভট্টাচার্য…

আরো পড়ুনদেবাশিস সাহার দুটি কবিতা

রস

শ্রীহরি দত্তের ছবি

অকথ্য ভাষা অতি উৎসাহে প্রয়োগ করতেই চোদ্দ বাতি হাতে মাতৃমূর্তি চোখের সামনে ভাসে। লজ্জা পাই। মুখে লাগাম দিতেই আশপাশ থেকে ধেয়ে আসে বন্ধুসুলভ হাতাহাতি।লজ্জা পাই। অন্ধকার যখন কমে আসে পুরুষ মেসবাড়ি মজে ওঠে হোমিওপ্যাথি গন্ধে। রেগে যাই। ছবি: শ্রীহরি দত্ত

আরো পড়ুনরস

সীতার জবানবন্দি—বা খোলা চিঠি (একটি মোনোলগ)

অঞ্জন চক্রবর্তীর ছবি

[মহাকাব্য ‘রামায়ণ’এর ট্র্যাজিক মহানায়িকা সীতার জবানিতে একটি কাল্পনিক চিঠি বা একটি দীর্ঘ মোনোলগ, তার পুত্রবধূ দের উদ্দেশ্য করে রচিত। সময়কালঃ সীতার পাতাল প্রবেশের বহুকাল পরে।] পৃথিবী জননীর গোপন গর্ভগৃহ হতে জেগে উঠেছি, এই আমি, বৈদেহী। চোখের ঘন কালো কাজলে আষ্টেপৃষ্ঠে…

আরো পড়ুনসীতার জবানবন্দি—বা খোলা চিঠি (একটি মোনোলগ)

নিম্নবিত্ত কবিতা

সৈকত মাইতির ছবি

১. সবকিছু ঠিক নেই তবু নিম্নবিত্তের কাঠামোয় আমাদের সমাজ-সংসার। অসুখ হলে বিকেলও বিষণ্ণ হয় হাসপাতাল শুষে নেয় জীবনের পরিবর্তে রক্ত আর ঘাম। ২. আমাদের সন্তানেরা কষ্টের টাকায় ইশকুলে যায় ভিটামিনের গুণপনার হিসেব না করে আমাদের পরিবারগুলো আমিষের বিপরীতে থাকে গরিবের…

আরো পড়ুননিম্নবিত্ত কবিতা