স্থানান্তরিত: একটি যাপনের কবিতা

শুভাঙ্গী মুখার্জীর ছবি

শুরু করা যাক আমার পূর্বজদের কাহিনী দিয়ে। আমার পিতামহ, মাতামহ, পিতামহী, মাতামহীরা পরিত্যক্ত বসতবাড়ি, ভিটে-মাটি-গাছ-ফুল বিপদের চরম খাদের ধারে ফেলে সাঁতরে পেরিয়ে গেলেন নদীর এ-কুল থেকে ও-কুল। নদীর উত্তাল জোয়ারে ভেসেছিলেন যখন, শূন্য থেকে শূন্যের যাত্রাপথে—জানা ছিল না কি ছেড়ে…

আরো পড়ুনস্থানান্তরিত: একটি যাপনের কবিতা

আমার দিদিমার বাড়ি– কমলা দাশ

অদ্রীশ সিংহের ছবি

[কমলা সুরাইয়া (১৯৩৪ – ২০০৯) তার ছদ্মনাম  মাধবীকুট্টি নামে পরিচিত একজন ভারতীয় লেখক যিনি ইংরেজি ও মালায়লাম ভাষায় কবিতা, ছোটগল্প ও আত্মজীবনী রচনার জন্য অসম্ভব জনপ্রিয়। তিনি রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন। ১৯৯৯ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ও নিজের নাম পরিবর্তন করে…

আরো পড়ুনআমার দিদিমার বাড়ি– কমলা দাশ

জীবনের জলছবি

অভিনন্দা মুখোপাধ্যায়ের ছবি

মরীচিকা অতীতে পড়ে আছে। কত ঋণ আজও তার কাছে! কত কথা ফিরে আসে রোজ চাষবাস। পানের বরোজ। কত কথা বধিরতা কত অতলান স্মৃতিদের মতো। মরদেহ মেঘের ভিতরে রূপসীর বৃষ্টি হয়ে ঝরে একই সাঁঝে কর্কট রোগে কে কাঁদে কাহার বিয়োগে! বিয়োগে…

আরো পড়ুনজীবনের জলছবি

ইদানীংকালের ভাবনা

চিত্রদীপ দাশের ছবি

ইদানিংকালের ভাবনারা সব এক চিলতে সবুজ ঘাসের জন্য দড়ি-ছেঁড়া গরুর মত, এর তার বেড়া ভেঙে ঢুকে পড়ে তারপর— হাল্লারা নিয়ে যায় খোঁয়াড়ে। অথচ আমি জানি, একদিন ঠিক সমস্ত হাল্লার চোখ ফাঁকি দিয়ে সমস্ত আগাছার জঙ্গল পেরিয়ে তোমার সবুজ প্রান্তরে ঢুকে…

আরো পড়ুনইদানীংকালের ভাবনা

প্রাণের উত্তাপে

অদ্রীশ সিংহের ছবি

মাঠ ঘাট পার হয়ে বৃষ্টির ছুটে আসা দেখে তোমার উল্লাসপটচিত্র মনে আসে ফুটে ওঠে অজস্র বাতাবি ফুল যেরকম বর্ষা আগমনে। তুমি ফুটে ওঠো – তুমি ছুটে যাও, তোমার পায়ের চিহ্ন পদাবলী কীর্তনের সুরে ভেসে যায় সারা পাড়া জুড়ে হিরণ্যশান্তির অবকাশে।…

আরো পড়ুনপ্রাণের উত্তাপে

অভিজিৎ দত্তের দু’টি কবিতা

চিত্রদীপ দাশের ছবি

বীণাপানি ধুলো মেখে পড়ে আছে তার-ছেঁড়া বীণা আমাদের বাড়িতে সকল প্রকার জিনিষ আর ওই রুদ্রবীণাটি। আমার বাবা যখন পাহাড়ি রাগ বাজাতেন শ্রোতাবন্ধুগণ বলে উঠতেন, সামনে তাঁরা পাহাড় দেখছেন বাবা যখন নাকি মেঘরাগ বাজাতেন ভারতীয় জলপতনের শব্দ শোনা যেত আমরা এ-প্রজন্মের…

আরো পড়ুনঅভিজিৎ দত্তের দু’টি কবিতা

শেষ-পর্যন্ত তুমিই

অদ্রীশ সিংহের ছবি

যেভাবে আমরা দীপশলাকাকে দেশলাই করে নিতে পারি, যেভাবে দ্বিপ্রহরকে করে নিই দুপুর, সেভাবেই আমরা রবীন্দ্রনাথকে করেছি রবিঠাকুর। এর নাম ভালোবাসা, এর নাম আপনবোধ। আমাদের দিনে-দীনতায়,ক্ষণে-ক্ষতে, কোমল গান্ধারে, আহির ভৈরবে শেষ-পর্যন্ত তুমিই, ঠাকুর ! সমস্ত পারাপারের তুমি সাঁকো ! অবাক-আবিষ্কারে ঋদ্ধ…

আরো পড়ুনশেষ-পর্যন্ত তুমিই

গ্রাস

চিত্রদীপ দাশের ছবি

কুচকাওয়াজের সাদা রথ তুমি তার সেবাইত উন্নয়নের কাছে আরও কিছু নত হই অগ্নিবর্ষী ভাষণে তোমার সিংহ গাড়ি আসে অধিক প্রেরণা নিয়ে তার আগ্রাসে যায় আমাদের শিল্প ও শ্রম মেলা লোকলস্কর মন্ত্রীসান্ত্রী নিজস্ব খাদ্য খোঁজে সকলেই আমি নিশ্চুপে ভাবি ক্ষুধা নিবারণ ছবি :…

আরো পড়ুনগ্রাস

একটি কবিতা

অদ্রীশ সিংহের ছবি

অসমাপ্ত ব্যঞ্জনের দিকে উড়ে গেছে স্বরবর্ণগুলো লবণরহিত জেনে দাও তারে দু’ চিমটি কৃপা আঁধারে ডুবেছে আজ গানের উপত্যকা কাছে আসা তারাটির মৃদুস্বর, কথকতা আবার ফেরালো বৃষ্টিদিন, লঞ্চঘাট ভরন্ত নদীর বুকে জলের আঁচল অহেতুক কেঁপে কেঁপে ওঠে … ছবি : অদ্রীশ সিংহ

আরো পড়ুনএকটি কবিতা

সমীকরণ

অদ্রীশ সিংহের ছবি

ছেড়ে যাও সব সমীকরণ যেখানে জলছবির স্যাঁতসেঁতে ঘুমে তলিয়ে যেত কনকচাঁপা বিকেল আজ যা শূন্য ফুটিফাটা মাঠ সেখানেই নিভে যেত কোলাহল শিশিরের গল্প-গাথায় তবু তো সেই পেছন ফিরলেই কালশিটে শোকে ডুবিয়ে খেলে কুড়িয়ে আনা দুপুর তুমি জানলে না মাস্তুল ভেঙে…

আরো পড়ুনসমীকরণ

মৃত্যুজাত

অদ্রীশ সিংহের ছবি

১) বাবার মৃত্যুর পর একটা যুদ্ধ থেমে যায় শুরু হয় আরেকটা যুদ্ধের প্রস্ত্ততি… ২) নদীতে স্নান সেরে উঠেই ভেসে যায় দরজা এবং মৃত্যুজাত দ্রব্য তারপর কারও মুখ দেখি না… ৩) আজকাল আমি প্রশ্নবোধক বদলে যাওয়া যতিচিহ্ন বাবার জন্য এখনো রাতের…

আরো পড়ুনমৃত্যুজাত

ফাঁদ

অদ্রীশ সিংহের ছবি

অসুখে, মানুষের মুখগুলো অপরিচিত হয়ে ওঠে ঠিক ঠাওর করতে পারিনা, শেষ কবে দেখেছি শালিকগুলো ঢুকে পড়ে আমার বেডের পাশে কিছু পায়, কিছু খায়, গান পেটের দায় বাড়ির বারান্দায় দেখেছি, একটু লম্বা মতো ডানা দুটো মেলে ধরলে পরির মতো লাগত জানি,…

আরো পড়ুনফাঁদ

পৃথিবীর সহজতম কবিতা

উর্বি ইসলামের ছবি

ঘরে ফেরার কোনো তাড়া নেই কার জন্য তাড়া ? দরজা খোলার জন্য কেউ তো অপেক্ষায় নেই কত মানুষের ঘরই নেই রাজহোটেলে ভাত খেয়ে অনিচ্ছায় ঘরে ফিরব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমারই মতো একজন মানুষকে দেখে হাসি পাবে অশ্রুও পাবে দু’এক…

আরো পড়ুনপৃথিবীর সহজতম কবিতা

সহজপাঠ

অরিন্দম বসুর ছবি

ছোটবেলায় সহজপাঠ পড়েছিলাম সেই থেকে একজন শম্ভু সবসময় আমার সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে সে নিজেকে রাম ভেবে সামনের দশজনকে দশানন কল্পনা করেছিল কিনা জানি না কারণ আত্মপরিচয়ে সে আর কিছুই বলেনি কিন্তু অমোঘ অস্ত্রের থেকে সুপ্রাচীন ঋষিমন্ত্রের থেকে গভীর ও গগনস্পর্শী…

আরো পড়ুনসহজপাঠ

মেঘ কিছু মনে রাখে না

অদ্রীশ সিংহের ছবি

দুঃখ-কে মুখস্থ করি, অপযশ মুখস্থ করি, অনাহার, শ্রম, বিরহ-কে মুখস্থ করি একে একে গুন ভাগ, যোগ ও বিয়োগ — কিন্তু ভাগফল শেষঅবধি ওই শূন্য, আগুনের ঢেউ ওঠে, ভাঙা ভাষা, বিষাদের তরবারি। এস নৈমিষারণ্যের আঁধার, খরা কিনি, কান্না, রাগ কিনি, স্মৃতি…

আরো পড়ুনমেঘ কিছু মনে রাখে না